*চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় আপোস নয়: সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের দ্রুত গ্রেফতারের কড়া নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর*
মোঃ সোহাগ মিয়া উত্তরা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, চিকিৎসকসহ কোনো পেশাজীবীর নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো আপোস করা হবে না। সারাদেশে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের অতিশীঘ্র আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার বিকেলে ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল হাসপাতালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, "সারাদেশে বিশেষ করে ঢাকা মেট্রোপলিটনসহ অন্যান্য মেট্রো এলাকায় যারা চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, তাদেরকে আমি টাইম লিমিট দিচ্ছি না। অতিশীঘ্র যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের হেফাজতে নিতে না পারে, আইনের আওতায় আনতে না পারে, তাহলে যারা ব্যর্থ হবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
*৪৮ ঘণ্টায় ৪ জন গ্রেফতার*
গত ১৭ আগস্ট রাতে অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমান শান্তিনগরে তার চেম্বার থেকে বের হওয়ার পর সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের হামলার ঘটনা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ওই চক্রের সাত সদস্যের মধ্যে মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন ঘটনাস্থল থেকে, একজন লক্ষ্মীপুর থেকে, একজন যাত্রাবাড়ীর দনিয়া থেকে এবং অপরজন সাঁতারকুল এলাকা থেকে আটক হয়। দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করায় পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা ডিবির প্রশংসা করেন মন্ত্রী।
*৫০০ হাসপাতালে আনসার মোতায়েন*
চিকিৎসক ও অন্যান্য পেশাজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের ৫০টি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।
কোনো চিকিৎসক নিজস্ব চেম্বার বা ক্লিনিকে বিশেষ নিরাপত্তা ঝুঁকি বোধ করলে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করার পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে মন্ত্রী জানান, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী শর্ত পূরণ সাপেক্ষে যে কোনো নাগরিক শর্টগান বা পিস্তলের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। কোনো চিকিৎসক যদি নিজের নিরাপত্তার জন্য ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের প্রয়োজন মনে করেন, তবে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
*হুমকির শিকার ডা. আমিনুল হকের সঙ্গে সাক্ষাৎ*
সংবাদ সম্মেলনের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল হাসপাতালে একই চাঁদাবাজ চক্রের হুমকির শিকার অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিনুল হকের সঙ্গে কথা বলেন। হুমকির ঘটনার বিস্তারিত শুনে তিনি আইজিপি এবং ধানমন্ডি থানাকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির এবং বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।