জারুল খাল প্রকল্পে অনিয়মের সুযোগ নেই, সরকারি অর্থের অপচয় রোধে ট্রেজারিতে জমা
মোঃ সোহাগ মিয়া
*ফুলপুর, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি*
*২৮ জুলাই ২০২৬*
সরকারি অর্থের অপচয় রোধে দৃষ্টান্ত স্থাপন করল ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা প্রশাসন। অপ্রয়োজনীয় হওয়ায় রূপসী ইউনিয়নের জারুল খাল খন ও বৃক্ষরোপণ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত ১ কোটি ৫৪ লাখ ৫৩ হাজার ৩৮৫ টাকা পুরোটাই সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি ইজিপিপির আওতায় রূপসী ইউনিয়নের জারুল খালের পাঁচ কিলোমিটার অংশ খননের জন্য এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পের আওতায় খাল খননের পাশাপাশি দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনাও ছিল।
তবে কাজ শুর আগে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় খালটি আগে থেকেই পর্যাপ্ত খনন করা আছে। নতুন করে মাটি কাটার প্রয়োজন নেই। এছাড়া নির্ধারিত সময়ে খালে পানি থাকায় ইজিপির নিয়ম অনুযায়ী খনকাজও শুরু করা সম্ভব হয়নি।
এই অবস্থায় প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে বরাদ্দকৃত পুরো অর্থ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে ১ কোটি ৫৪ লাখ ৫৩ হাজার ৩৮৫ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইউসুফ বলেন, "আমরা চাই প্রতিটি টাকার সঠিক হিসাব থাকুক। যেখানে কাজের প্রয়োজন নেই সেখানে শুধু বরাদ্দ খরচ করার জন্য প্রকল্প চালানো যায় না। সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করতেই অব্যয়িত পুরো অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে ইজিপির আওতায় খাল খননের আগে আরও যাচাই-বাছাই করা হবে। যে সব স্থানে পানি নিষ্কাশন ও কৃষির জন্য প্রকৃত প্রয়োজন রয়েছে, কেবল সেখানেই প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, জারুল খাল দিয়ে বর্ষায় পানি নিষ্কাশন হয়। কয়েক বছর আগেও এটি খনন করা হয়েছিল। তাই নতুন করে বরাদ্দ এলেও কাজ না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে কোনো ক্ষোভ নেই। বরং প্রশাসনের এই স্বচ্ছ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেকে।
ইজিপি কর্মসূচির মূল লক্ষ্য মৌসুমী বেকারত্ব কমিয়ে অতিদরিদ্র পরিবারের সদস্যদের ৪০ দিনের অস্থায়ী কর্মসংস্থান দেওয়া। সে কারণে বরাদ্দ ফেরত গেলেও আগামীতে উপযুক্ত প্রকল্পের মাধ্যমে শ্রমিকদের কাজের সুযোগ তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
ফুলপুর উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সরকারি সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।