ঢাকা-১৮ এর বাউনিয়ায় শারীরিক প্রতিবন্ধী রাজিব আহমেদের হাতে স্মার্ট ইলেকট্রিক হুইলচেয়ার তুলে দেওয়া হলো
মোঃ সোহাগ মিয়া নিজস্ব প্রতিনিধি
*ঢাকা:* চলাচলের দীর্ঘদিনের কষ্ট এবার অনেকটাই লাঘব হলো। ঢাকা-১৮ আসনের অন্তর্গত তুরাগ থানাধীন বাউনিয়া এলাকার শারীরিক প্রতিবন্ধী রাজিব আহমেদকে আধুনিক প্রযুক্তির একটি স্মার্ট ইলেকট্রিক হুইলচেয়ার প্রদান করা হয়েছে। সহায়তাটি পেয়ে পরিবারসহ এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি আর কৃতজ্ঞতার ছাপ দেখা গেছে।
শনিবার বাউনিয়া এলাকায় রাজিব আহমেদের বাড়িতে গিয়ে তার হাতে হুইলচেয়ারটি তুলে দেওয়া হয়। নতুন এই ইলেকট্রিক হুইলচেয়ারটিতে রয়েছে রিচার্জেবল ব্যাটারি, জয়স্টিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং উঁচু-নিচু রাস্তায় সহজে চলার উপযোগী মজবুত চাকা। ফলে রাজিব এখন স্বাধীনভাবে ঘরের বাইরে যাওয়া, প্রয়োজনীয় কাজ সারা এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন।
*"এখন আর কারও ওপর নির্ভর করতে হবে না"*
হুইলচেয়ার পেয়ে আবেগাপ্লুত রাজিব আহমেদ বলেন,
"আগে বাইরে যেতে হলে অন্যের সাহায্য লাগতো। রাস্তার মোড় পর্যন্ত যেতেও কষ্ট হতো। এই স্মার্ট হুইলচেয়ার পাওয়ার পর মনে হচ্ছে নতুন করে জীবন ফিরে পেলাম। এখন নিজেই বাজার, মসজিদ এমনকি আত্মীয়ের বাড়িতেও যেতে পারবো।"
রাজিবের মা বলেন, "ছেলেটা ছোটবেলা থেকেই চলাফেরায় কষ্ট করেছে। আজ তার মুখে হাসি দেখে শান্তি পাচ্ছি। যারা এই সহায়তা করেছেন আল্লাহ তাদের ভালো করুক।"
*স্থানীয় উদ্যোগ ও সহমর্মিতা*
স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানান, ঢাকা-১৮ আসনকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে অসহায় ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আসনের অন্যান্য থানাতেও এ ধরনের সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এলাকার সমাজসেবকরা বলছেন, রাজিবের মতো অনেকেই আছেন যাদের সামান্য সহযোগিতাই জীবন বদলে দিতে পারে। প্রযুক্তিনির্ভর এই হুইলচেয়ার শুধু একটি যান নয়, এটি রাজিবের আত্মনির্ভরশীলতার প্রতীক।
*নতুন সম্ভাবনার পথে*
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্মার্ট ইলেকট্রিক হুইলচেয়ারের মতো সহায়ক প্রযুক্তি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে বড় ভূমিকা রাখে। রাজিব এখন চাইলে ছোটখাটো কাজ বা প্রশিক্ষণেও যুক্ত হতে পারবেন, যা তার পরিবারের জন্যও আশার আলো।
বাউনিয়া এলাকার বাসিন্দারা এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
রাজিবের এই নতুন যাত্রা প্রমাণ করে, সহানুভূতি আর সঠিক সহায়তা পেলে কোনো প্রতিবন্ধকতাই থেমে থাকতে পারে না।