তুরাগে ধউর ইসকন মন্দিরে উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হলো উল্টো রথযাত্রা। সার্বিক সহযোগিতা ধউর ইসকন মন্দির ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ।
মোঃ সোহাগ মিয়া উত্তরা
ভক্তি, আনন্দ আর রঙের ছোঁয়ায় মুখরিত হয়ে উঠল তুরাগের ধউর ইসকন মন্দির প্রাঙ্গণ। শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে শুক্রবার এখানে আয়োজন করা হয় বিশাল ধর্মীয় শোভাযাত্রা ও পূজা-অর্চনার।
সকাল থেকেই মন্দির চত্বরে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ ভক্তরা। ঢাক, কাশি, করতাল আর হরিনাম সংকীর্তনের মধ্য দিয়ে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহকে সুসজ্জিত রথে তোলা হয়। এরপর রথের রশিতে টান দিয়ে ভক্তরা প্রার্থনা করেন জগতের মঙ্গল ও শান্তির জন্য।
সার্বিক সহযোগিতায় সম্প্রীতির নজির
এবারের উল্টো রথযাত্রা আয়োজনে তুরাগ ও আশপাশের বিভিন্ন হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ সার্বিক সহযোগিতা করেন। স্থানীয় পূজা কমিটি, সনাতন ধর্মীয় সংগঠন এবং যুব সমাজের স্বেচ্ছাসেবকরা মিলে উৎসবটিকে সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে কাজ করেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা বহন করে। তাই এবার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতাদের একসঙ্গে পেয়ে অনুষ্ঠান আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
ভক্তদের উচ্ছ্বাস
রথ টানার পর মন্দির প্রাঙ্গণে প্রসাদ বিতরণ, ভজন ও ধর্মীয় আলোচনার আয়োজন করা হয়। ছোটদের জন্য ছিল পায়েস, খিচুড়ি ও ফলের প্রসাদ। অনেকেই পরিবার নিয়ে এসে দিনভর উৎসবে অংশ নেন।
একজন ভক্ত বলেন, “রথের দিনে প্রভু জগন্নাথ মাসির বাড়ি থেকে নিজের মন্দিরে ফেরেন। এই ফেরার আনন্দটা অন্যরকম। ধউর ইসকন মন্দিরের আয়োজন প্রতিবারই মন ছুঁয়ে যায়।”
নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা
উৎসব ঘিরে তুরাগ থানা পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। স্বেচ্ছাসেবকরা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও ভক্তদের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন।
ইসকন ধউর মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, প্রতি বছরের মতো এবারও উল্টো রথযাত্রার মাধ্যমে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
উৎসব শেষে রাতে বিশেষ আরতির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।