দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’: ধোবাউড়ায় এনসিপির জাগরণী পথসভায় জনতার ঢল, নতুন বাংলাদেশের বার্তা
মোঃ সোহাগ মিয়া নিজস্ব প্রতিনিধি
‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি - এনসিপি'র জাগরণী পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশ পুনর্গঠন, গণতান্ত্রিক চর্চা এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের আহ্বান নিয়ে আয়োজিত এই পথসভায় স্থানীয় জনসাধারণের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে।
সকাল থেকে ধোবাউড়ার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ পথসভাস্থলে জড়ো হন। স্লোগান, ব্যানার আর প্ল্যাকার্ডে মুখরিত ছিল পুরো এলাকা।
*যা বললেন নেতারা*
পথসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক *নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী* এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক *সারজিস আলম*।
নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, “২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। সেই বাংলাদেশকে এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতি ও দখলদারিত্বের রাজনীতি আর চলবে না। প্রতিটি উপজেলায় মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই রাষ্ট্র পুনর্গঠন করতে হবে।”
সারজিস আলম তার বক্তব্যে বলেন, “জুলাই আমাদের জাগরণের মাস। এই জাগরণ শুধু ঢাকার নয়, ধোবাউড়া, নকলা, হালুয়াঘাট প্রতিটি প্রান্তের মানুষের। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে গ্রামের মানুষের ভাগ্য বদলাতে হবে। আমরা চাঁদাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি এবং নেব।”
তিনি আরও বলেন, এনসিপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী দিয়ে মানুষের পাশে থাকতে চায়। যাদের বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ নেই, তারাই দলের হয়ে কাজ করার সুযোগ পাবে।
পথসভা শেষে নেতারা ধোবাউড়া বাজারে গণসংযোগ করেন। দোকানদার, কৃষক, শিক্ষক ও তরুণদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যার কথা শোনেন। স্থানীয়রা রাস্তা, বিদ্যুৎ, কৃষি উপকরণ ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের দাবি তুলে ধরেন।
এনসিপি নেতারা আশ্বাস দেন, জনগণের এসব দাবি জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরা হবে এবং “জুলাই জাগরণ” কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিটি ঘরে গণতান্ত্রিক চর্চার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এনসিপি ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় পদযাত্রা ও পথসভা করছে। দলটি সম্প্রতি ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রাথমিক প্রার্থীও ঘোষণা করেছে।
ধোবাউড়ার এই আয়োজনকে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে মাঠ পর্যায়ে সরাসরি জনসংযোগের মাধ্যমে এনসিপি তৃণমূলকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছে।