পরকীয়া
কবি ও সম্পাদক মোঃ সোহাগ মিয়া
রাত গভীর হলে জানালার ফাঁক দিয়ে
চাঁদের আলো এসে পড়ে তার চোখের কোণে
সে আলো কারো নাম ধরে কাঁপে,
আমি শুধু ছায়ার মতো পাশে দাঁড়িয়ে থাকি।
সিঁদুরের রেখাটা এখনও কপালে জ্বলে,
হাতের শাঁখা এখনও বাজে সকালে
কিন্তু চায়ের কাপে তার ঠোঁটের ছোঁয়া
আর আগের মতো আমার জন্য থেমে থাকে না।
সে বলে, "ঘুম আসে না"
আমি বলি, "বাতি নিভিয়ে দাও"
রাতের আড়ালে তার ফোনের আলো জ্বলে ওঠে
একটা নাম, একটা অপেক্ষা, একটা অন্য জগৎ।
আমি কি রাগ করব?
রাগ করলে তো সংসার ভেঙে যায়
আমি কি কাঁদব?
কান্না তো শব্দ করে, আর শব্দে মানুষ জেগে ওঠে।
তাই আমি চুপ করে রুটি সেঁকি
তার শাড়ির ভাঁজ ঠিক করে দিই
বাচ্চার খাতায় তারিখ লিখে দিই
আর নিজের বুকের ভেতর একটা ফাঁকা ঘর বানাই।
লোকে বলে পরকীয়া মানে বিশ্বাসঘাতকতা
আমি বলি, পরকীয়া মানে একটা মেয়ে
যে দুইটা নদীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে
কোন তীরে পা রাখবে বুঝতে পারে না।
একদিকে পুরনো অভ্যাসের উঠোন
যেখানে তুলসীতলায় সন্ধ্যা দেয়া হয়
অন্যদিকে নতুন চিঠির গন্ধ
যেখানে প্রথমবারের মতো কেউ বলে "তোমাকে চাই"।
সে কি সুখী?
সে নিজেও জানে না
সে শুধু জানে, রাত ২টায়
কারো একটা মেসেজ বুকের ভেতর ঝড় তোলে।
আমি কি তাকে ছেড়ে দেব?
ছাড়লে তো নিজেকেই ছেড়ে দিতে হয়
আমি কি তাকে আঁকড়ে ধরব?
ধরলে তো বালির মতো হাতের ফাঁক দিয়ে ঝরে পড়ে।
তাই আমি প্রতিদিন সংসার করি
ভাত বাড়ি, কাপড় কাচি, ঝগড়া করি না
শুধু মাঝে মাঝে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে
নিজেকে জিজ্ঞেস করি, "আমি কে ছিলাম?"
পরকীয়া স্ত্রী কোনো গল্পের খলনায়িকা না
সে একটা মানুষ
যার বুকের ভেতর দুইটা জীবন একসাথে হাঁটে
একটা দায়ের, আরেকটা ইচ্ছের।
শেষ রাতে যখন শহর ঘুমায়
সে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে সিগারেট ধরায় না
শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে
আর মনে প্রার্থনা করে,
"হে ঈশ্বর, আমাকে একটা সঠিক ভুল দাও।"
আর আমি?
আমি দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে
তার প্রার্থনা শুনি
তারপর আস্তে করে দরজা বন্ধ করে দিই
কারণ কিছু যুদ্ধে জয়ী হওয়া যায় না
শুধু বেঁচে থাকা যায়।