পাথরঘাটায় ভূয়া ডাক্তার আল আমিনের বহুমাত্রিক প্রতারণা: দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি
বিশেষ প্রতিবেদক
: জালিয়াতি, প্রতারণা এবং ভূয়া পরিচয়ে প্রতারণার এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বরগুনার পাথরঘাটা এলাকার বাসিন্দা মো: আল আমিনের বিরুদ্ধে। ভূয়া চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা, একাধিক বিয়ে এবং জাল দলিলের মাধ্যমে জমি-জমা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এলাকায় চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা ও দ্রু গ্রেপ্তার দাবি জানিয়েছেন।
জালিয়াতি ও ভুয়া ডাক্তারের পরিচয়
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী মো: আল আমিনের (পিতা: আ: মোতালেব হাং, মাতা: মোসেস হাজেরা খাতুন, গ্রাম: জ্ঞানপাড়া, পাথরঘাটা, বরগুনা) পেশা হিসেবে 'ব্যবসা' উল্লেখ থাকলেও, তিনি ভুয়া চিকিৎসা সনদ ও প্যাড ব্যবহার করে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। "মা মেডিসিন কর্নার" এবং "ফেয়ার হেলথ ডায়াগনস্টিক সেন্টার" সংক্রান্ত প্রেসক্রিপশন ও নথিতে তাকে চিকিৎসক হিসেবে রোগী দেখতে দেখা গেছে। প্রকৃতপক্ষে তার কোনো বৈধ রেজিস্টার্ড চিকিৎসা ডিগ্রি (BMDC সনদ) নেই বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে এমন চিকিৎসাসেবা প্রদান জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি স্বরূপ।
জাল দলিলের মাধ্যমে জমি দখল
শুধু ভুয়া ডাক্তারিই নয়, স্ট্যাম্প ও জাল কাগজের মাধ্যমে জমি-জমা সংক্রান্ত নানা জালিয়াতির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ সরকারের স্ট্যাম্প ব্যবহার করে ভুয়া শর্ত ও চুক্তিপত্র তৈরি করে বিভিন্ন মানুষের জমি হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ মিলেছে। স্থাবর সম্পদ আত্মসাৎ এবং ভুয়া দলিলের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষকে নিঃস্ব করে দিচ্ছেন।
একাধিক বিয়ে ও সামাজিক অনাচার
অভিযোগে আরো জানা যায়, নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখে এবং বিভিন্ন প্রতারণামূলক কৌশলে তিনি ৪ থেকে ৫টি বিয়ে করেছেন। একাধিক পরিবারকে অনিশ্চয়তা ও প্রতারণার মুখে ঠেলে দিয়ে তিনি সামাজিক শৃঙ্খলা ও পারিবারিক জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছেন।
আইনগত ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
একজন ভূয়া ডাক্তার সেজে চিকিৎসাসেবা দেওয়া এবং প্রতারণার মাধ্যমে জমি ও অর্থ আত্মসাৎ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। স্থানীয় ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী অবিলম্বে এই ভূয়া ডাক্তারের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্বাস্থ্য প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপই পারে এই ধরনের জঘন্য অপরাধ ও প্রতারণা বন্ধ করতে।