ময়মনসিংহে রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যা – ছাত্রদল নেতা নজরুল ইসলাম বহিষ্কার
আবুল কালাম আজাদ, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে রিকশাচালক খোকন মিয়াকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর মগটুলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি নজরুল ইসলামকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে জেলা ছাত্রদল।
রবিবার (৫ অক্টোবর ২০২৫) দুপুরে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন তালুকদার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। একই সঙ্গে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
নজরুল ইসলাম ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নের করমা গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে এবং রিকশাচালক খোকন মিয়া হত্যা মামলার দুই নম্বর আসামি।
গত শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার করমা গ্রামে রিকশাচালক খোকন মিয়াকে (৪০) পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত খোকন মিয়া ওই গ্রামের মৃত কছিম উদ্দিনের ছেলে।
পরদিন শনিবার খোকনের ছেলে বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে নজরুল ইসলামসহ ১৩ জনের নামে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত খোকনের পরিবারের সঙ্গে নজরুল ইসলামের পরিবারের দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের জেরে শুক্রবার রাতে নজরুল ও তার ভাইয়েরা খোকনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে দুই হাত-পা ভেঙে ফেলেন। মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন খোকন। পুলিশ খবর পেয়ে তাঁকে উদ্ধার করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ওবায়দুর রহমান বলেন, “আমরা রাত দেড়টার দিকে খোকন মিয়াকে উদ্ধার করি। তখনও তিনি জীবিত ছিলেন, কথা বলেছেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর দুই হাত ও দুই পা ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, মাথাতেও আঘাত ছিল।”
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় নজরুল ইসলামের পরিবারের সদস্য জ্যোৎস্না আক্তার ও সোহাগকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলেও আদালত শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘটনার পর থেকে প্রধান আসামি নজরুল ইসলাম ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা পলাতক রয়েছেন।
ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন তালুকদার বলেন, “সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে মগটুলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।”
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।