*মাদক, কিশোর গ্যাং ও ফুটপাত দখলদারদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা ৩ নং সেক্টর কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম মাহবুবের*
মোঃ সোহাগ মিয়া বিদেশের প্রতিনিধি ঢাকা
সমাজ থেকে মাদক, কিশোর গ্যাং কালচার ও অবৈধ ফুটপাত দখল সম্পূর্ণ নির্মূলের ঘোষণা দিলেন উত্তরা ৩ নং সেক্টর কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম মাহবুব। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এই তিনটি বিষয়ে কোনো ধরনের আপস বা ছাড় দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সেক্টর কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত ‘নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন সেক্টর গঠন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেন।
সভায় তিনি বলেন, “আমাদের সন্তানরা মাদকের ছোবলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে অভিভাবকরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। আর ফুটপাত দখল করে সাধারণ মানুষের হাঁটার পথ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে দেওয়া যায় না।”
তিনি আরও বলেন, “আজ থেকে ৩ নং সেক্টরে মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাংয়ের চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং ফুটপাত-রাস্তা দখলকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর হলো। যেই হোক, যার সাথেই সম্পর্ক থাকুক, অপরাধ করলে তাকে আইনের হাতে তুলে দেওয়া হবে। কল্যাণ সমিতি এ বিষয়ে প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।”
মোঃ নজরুল ইসলাম মাহবুব সভায় তিনটি কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন:
1. *মাদকবিরোধী অভিযান*: সেক্টরের প্রতিটি গলিতে স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন। মাদক বিক্রি বা সেবনের কোনো তথ্য পেলেই তাৎক্ষণিক থানায় জানানো হবে। স্কুল-কলেজে নিয়মিত সচেতনতা সেমিনার করা হবে।
2. *কিশোর গ্যাং নির্মূল*: গ্যাং কালচারে জড়িত কিশোরদের তালিকা করে তাদের অভিভাবকদের নিয়ে কাউন্সেলিং। খেলাধুলা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা হবে। তবে যারা চাঁদাবাজি, ছিনতাই করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা।
3. *ফুটপাত উদ্ধার অভিযান*: অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে দোকান, গ্যারেজ বা মালামাল রাখা বন্ধ করতে সিটি করপোরেশন ও পুলিশের সাথে যৌথ অভিযান চালানো হবে। পথচারীদের চলাচলের জন্য ফুটপাত উন্মুক্ত রাখা হবে।
সভায় সেক্টরের ওয়ার্ড কাউন্সিলর, বিট পুলিশ কর্মকর্তা, বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, স্কুল-কলেজের প্রধান শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা নজরুল ইসলাম মাহবুবের এই কঠোর অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে কল্যাণ সমিতির পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।
সভা শেষে তিনি এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, “পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ সেক্টর গড়তে প্রশাসন একা পারবে না। আপনার চোখ, আপনার তথ্যই আমাদের শক্তি। মাদক ও অপরাধ দেখলেই ৯ বা কল্যাণ সমিতির হটলাইনে জানান। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে।”
৩ নং সেক্টরবাসী আশা করছেন, সাধারণ সম্পাদকের এই ঘোষণার পর সেক্টরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং হারানো স্বস্তি ফিরে আসবে।।।