
সংস্কারের অভাবে সড়কের বেহাল দশা, ভোগান্তিতে লাখো মানুষ!
জেলা প্রতিনিধি,মো: জামান মিয়া
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলা সদর হতে ধোবাউড়া উপজেলা পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩১ কিলোমিটার রাস্তা। সংস্কার এর অভাবে রাস্তাটি বর্তমানে মরণফাঁদে পরিনত হয়েছে।এমন কোনদিন নেই যে,এই রাস্তায় কোন না কোন স্থানে যানবাহন দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে এবং এজন্য জানমালের ক্ষয়ক্ষতি সাধন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়ের পর্যায়ে চলে গেছে।
শুরুতেই এ রাস্তায় চলতে গেলে ময়মনসিংহ - হালুয়াঘাট হাইওয়ে হতে ধোবাউড়া রাস্তার মুখে সার্বক্ষণিক যানযটে আটকে থাকতে হয়। নির্দিষ্ট কোন বাসস্ট্যান্ডের জায়গা না থাকায যত্রতত্র নির্বিকার থেমে যানযটের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে এ রোডের গাড়িগুলো। তাছাড়া সিএনজি, মহেন্দ্র, অটোরিকশা,রিক্সা, মোটরবাইকসহ সকল পরিবহনের মোক্ষম স্ট্যান্ড হলো এ মোড়টি।যাহার জন্য শিক্ষার্থী সহ পথচারীদের প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়।তারাকান্দা থেকে ধোবাউড়া রোডের ঢেওহাতলী মোড়ে ও সামনের রাস্তার গর্তের কারণে বেশ ক'টি ট্রাক দূর্ঘটনায় ইতিমধ্যে ঘটেছে,ৃ জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।রাস্তার দুইপ্বার্শে ফিসারী থাকায় পানি আটকে বড় বড় গর্ত তৈরী হওয়ায় প্রতিদিন অহরহ দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে এই সড়কে। পুরো রাস্তাটি খানাখন্দের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে,এই রাস্তায় চলাচলকারী সবার মুখে একটি কথা,"সড়ক বিভাগ যখন অন্ধ হয়ে যায় তখন রাস্তার এই অবস্থা হয়"। রাস্তা উন্নয়নের কর্তব্যরত প্রতিষ্ঠানগুলো যখন তাদের ব্যক্তিগত উন্নতির চিন্তায় মগ্ন, তখন রাস্তার এই বেহাল দশা সৃষ্টি হয়।এছাড়াও ব্যাক্তি উদ্যোগে জায়গায় জায়গায় দেওয়া হয়েছে স্পিডব্রেকার(গতিরোধক)যেগুলো আবার মার্কিং করা নেই, সেগুলোতে দুর্ঘটনায় মারা গেছে এ পর্যন্ত প্রায় ৭/৮ জন।বেহাল অবস্থায় রয়ে গেছে ধোবাউড়া ভায়া তারাকান্দা সড়কের বিভিন্ন বাজারের অংশগুলো।বিশেষ করে ভুষাগঞ্জ, হরিয়াগাই,টিউকান্দা চৌরাস্তা, কেন্দুয়া, বওলাসহ পথিমধ্যে আরো বেশ ক'টি বাজারের অংশ অত্যান্ত নাজেহাল অবস্থায়। তারাকান্দা থেকে ধোবাউড়া উপজেলার ৩১ কিলোমিটার সড়কের মোট ১৯ কিলোমিটার সড়কের বেশির ভাগই খানাখন্দে ভরা। এলজিইডি কর্তৃক পরিচালনাধীন এ সড়কের এমন বেহালদশার কারণে সুসং দুর্গাপুর, ধোবাউড়া,হালুয়াঘাট,পূর্বধলা,ফুলপুর উপজেলার যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে পরিবহন ভাড়া।সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রসূতিসহ সাধারণ রোগীরা।গোয়াতলা থেকে ফুলপুর, তারাকান্দা সড়কের অবস্থা দেখে মনে হয় এগুলো দেখার কেউ নেই। প্রতিদিন সিমান্তবর্তী এলাকার আপামর জনসাধারণ সহ ৩/৪টি উপজেলার লাখো মানুষ রাজধানী,বিভাগীয়, জেলা,উপজেলার শহরগুলোতে এ সড়কের যাতায়াত করে।আসন্ন বর্ষা মৌসুমে সড়ক মেরামতের কাজ শুরু না করলে রাস্তাটি পুরোপুরি পরিত্যক্ত হবে বলে জানান যানবাহনের বিভিন্ন ,ড্রাইভার ও ভুক্তভোগীগণ। কলসিন্দুরের ফুটবল কন্যারাও এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করে তারাও বললেন,'সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই।আমরা দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনি আর আমাদের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি মেরামত করা হয় না'।বিগত বর্ষা মৌসুমে সড়কের সিলকোট কার্পেটিং উঠে বড়ো বড়ো গর্ত তৈরি হয়ে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছিল।সামান্য বৃষ্টি হলে এসব গর্তে হাঁটুপানি জমে যায়।কিন্তু যথাযথ কর্তৃপক্ষ কুম্ভকর্ণের মতো দেখেও না দেখার ভাণ করে আছে বিধায় তা সংস্কার হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়,তারাকান্দা বাজার থেকে ধোবাউড়া সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত সেইসঙ্গে ধুলার অত্যাচার।চোখের পানি নাকের পানি একাকার করে ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা যায় শিক্ষার্থী,পথচারী, রোগীসহ পাহাড়ে ভ্রমণ পিপাসুদের।
অবিলম্বে বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই জরুরী জনগুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তাটি মেরামতের ব্যবস্থা নিতে এলজিইডি'র জেলা ও বিভাগীয় প্রধান প্রকৌশলী সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং উপদেষ্টা মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করছে এলাকাবাসীসহ এই রাস্তায় চলাচলকারী সুবিধাভোগী জনসাধারণ।