1. admin@dailybanglanewstv.com : admin :
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
উত্তরা তুরাগে গ্রীন কস্টম সোয়েটার কারখানায় তালা, সাবেক ডিআইজির বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ* আশুলিয়ার বাইসাইদে ফেব্রিকা গার্মেন্টসের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে জমি দখলের অভিযোগ, হুমকির অভিযোগে থানায় জিডি* তুরাগ থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী চাঁন মিয়া বেপারীর একমাত্র মেয়ে তাসমিম সুলতানা ওড়িয়ার জন্মদিন আজ* ত্রিশালে ৪০ লাখ টাকার ভারতীয় কম্বলসহ কার্গো জব্দ, গ্রেপ্তার ২ সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের মৃত্যুতে শোকাহত পরিবারের পাশে এমপি এস এম জাহাঙ্গীর ময়মনসিংহের ফুলপুরে মরহুম সুজউদ্দিন সুজা স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত দায়িত্বশীল ও সৎ নেতৃত্বের প্রতীক আব্দুল আলীকে ৫৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে চায় সচেতন নাগরিক সমাজ* দায়িত্বশীল ও সৎ নেতৃত্বের প্রতীক আব্দুল আলীকে ৫৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে চায় সচেতন নাগরিক সমাজ* উত্তরার তুরাগে জমি দখল ও স্থাপনা ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে ভুক্তভোগী মর্তুজার সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল আয়োজিত সি-ক্যাটাগরি ফার্মেসি কোর্সের ৬৪তম ব্যাচের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত, প্রধান অতিথি ঢাকা-১৮ আসনের এমপি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন*

পঞ্চগড়ে মাদ্রাসার শিক্ষক কর্তৃক ছাত্র বালাৎকারের অভিযোগ, রাতের আঁধারে মিমাংসার চেষ্টা।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২২ জুন, ২০২৫
  • ৫৬ বার পঠিত

পঞ্চগড়ে মাদ্রাসার শিক্ষক কর্তৃক ছাত্র বালাৎকারের অভিযোগ, রাতের আঁধারে মিমাংসার চেষ্টা।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি:

পঞ্চগড়ে মাদ্রাসার শিক্ষক কর্তৃক সেই মাদ্রাসা পড়ুয়া এক ছাত্রকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বালাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। পরে সেই ঘটনা ধামচাপা দিতে রাতের আঁধারে মিমাংসার চেষ্টা করেন স্থানীয় মাতব্বররা এমন একটি ভিডিও আজ শনিবার(২১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। জেলার বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নে ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মোঃ মাহাবুব হুসাইন অরফে মাহে আলম, তিনি বগদুলঝুলা হাজীপাড়া আমিরিয়া একরামিয়া নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং এর মুহতামিম।
ভুক্তভোগী ছাত্র ও তার অভিভাবক সূত্রে জানা যায়, বড়শশী ইউনিয়নের নাওতরি সুইয়ের পাড় গ্রামের ৮ বছর বছর বয়সী সেই শিশুটি পার্শ্ববর্তী বগদুলঝুলা হাজীপাড়া আমিরিয়া একরামিয়া নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং এ কায়দা শ্রেণীতে পড়ার সুবাদে অন্যান্য শিশুদের সাথে সেখানেই থাকতো। একই ঘরে রাতে শিশুরা মেঝেতে আর শিক্ষক ঘরের একদিকে কালো কাপড়ের পর্দা বেষ্টিত খাটে ঘুমাতেন। গত কোরবানী ঈদের আগে ২জুন রাতে অন্যান্য দিনের মতো শিশুরা যখন ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলো, তখন অভিযুক্ত মাহেআলম হুজুর পাশ্ববর্তী লিচুর গাছ থেকে ছাত্রদের লিচু পেড়ে আনতে নির্দেশ দেন। এরপরে সবাই মিলে লিচু খাওয়া-দাওয়া শেষে নির্যাতনের শিকার শিশুটি কালো পর্দার ভেতর থেকে ময়লা ফেলার জন্য ঝুড়ি আনতে গেলে সেখানেই সে শিক্ষক মাহেআলমের বিকৃত যৌন লালসার শিকার হয়। ভয়ভীতি দেখিয়ে বালাৎকার করা হয় তাকে। বালাৎকারের পর প্রচন্ড যন্ত্রনায় যখন কাতরাচ্ছিল শিশুটি তখন তাকে ব্যাথানাশক ওষুধ খাইয়ে কাউকে ঘটনা বললে মেরে ফেলার ভয় দেখান হুজুর। এরপরের দিন ঈদ উপলক্ষে মাদ্রাসা ছেড়ে বাড়িতে যায় শিশুটি। ছুটি কাটানোর পুরোটা সময় ভয়ে সে কাউকে কিছু বলতে না পারলেও ছুটি শেষে মাদ্রাসায় ফিরে যেতে যখন চাঁপ দেওয়া হয় পরিবার থেকে তখন ভয়ে কাঁদতে থাকে সে, আপত্তি জানায় ফিরে যেতে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিশুটির বাবা যখন শিশুটিকে মারতে উদ্যত হয় তখন কাঁদতে কাঁদতে শিশুটি বাধ্য হয় মাদ্রাসায় ফিরে যাওয়া নিয়ে তার ভয়ের আসল কারন পরিবারের সামনে তুলে ধরতে। এরপরে গণমাধ্যমের কাছে ঘটনার বর্ণনা করতে গিয়ে বারবার কাঁদছিলো শিশুটি। শিশুটির সাথে সাথে এসময় চোখ থেকে অশ্রু ঝড়তে দেখে যায় শিশুটির বাবা মো: সোনাহার আলীর চোখেও। এসময় চোখেমুখে চরম ক্ষোভ নিয়ে তিনি বলেন, ইসলাম ও দ্বিনের আলোয় আলোকিত করতে শিশু বাচ্চাকে দিয়েছিলাম আমানত হিসেবে মাদ্রাসার হুজুরের কাছে। তিনি আমার নাবালক শিশুটির সাথে এমন অমানুষিক কাজ কিকরে করতে পারলো। আর যেন কোন শিশুর কপালে এমন দুর্ভোগ না ঘটে, আমি তাই দোষী শিক্ষক মাহেআলমের দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি চাই।
একই সাথে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আর যেন কেউ এ ধরনের কর্মকান্ড করতে সাহস না পায়, সেজন্য দোষী মাদ্রাসা শিক্ষকের উপযুক্ত বিচার চান এলাকাসীরাও।

অপরদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওর মাধ্যমে জানা যায়, ঘটনা জানাজানি হওয়ার আগেই সেটি ধামাচাপা দিতে গভীর রাতে মিমাংসার চেষ্টা চালান স্থানীয় মাতব্বররা। এমনকি বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে বাড়াবাড়ি না করার বিষয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের পক্ষ থেকে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক মাহবুব হুসাইন ওরফে মাহেআলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি নিজেকে নির্দোষ ও চক্রান্তের শিকার বলে উল্ল্যেখ করেন।

এদিকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম এর কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি প্রথমে বিষযটি জানেন না, এবং পরে কিভাবে মিমাংসা করা যায় তার উপায় খোঁজেন খোঁদ গণমাধ্যম কর্মীদের কাছেই।

 

পঞ্চগড়
২১/০৬/২০২৫

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর