
অথই নূরুল আমিন
১৯৭১ এর স্বাধীনতার পর থেকেই, আমাদের সমাজ চলছে ভুলে ভরা নীতিমালায়, যুগ যুগ ধরে চলছে আমাদের বাংলাদেশ। এখানে যখন যে সরকার এসে যে কর্মসূচি চালু করেছে। তখনও সেই কর্মসূচি সরকারে থাকা একদল শিক্ষিত বলেছে। এটাই সঠিক, অথচ পরবর্তী সরকার এসে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। অতিতের সরকারের অমুক কর্মসূচি গুলো শতভাগ ভুল ছিল।
এভাবেই আমরা যুগের পর যুগ ভুল আর ভুল করে আসছি। এখানে তাহলে আমরা শিক্ষিত বলব কাকে?
বতর্মান সরকারের কথা যদি বলি, তারা এসে দেশের সকল বুদ্ধিজীবী নিয়ে বিভিন্ন সংস্কার কমিশন করে সবকিছু ঠিক করবে বলে উঠে পরে লেগেছেন। এখানে রাজনৈতিক দলের মতামতকেও প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। কিন্তু লক্ষ্য করে দেখা গেছে আসল কথাটি কেউ বলছেন না।
সেই আসল কথাটি হলো : জাতীয় সংসদ নির্বাচন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যদি তিনশ প্রার্থীই দিয়েই নির্বাচন হয়। তারপর যদি আবার সংরক্ষিত আসনে আরো একশ মহিলা এমপি করা হয়। তাহলে তো সেই লেজে গোবরে অবস্থা রয়েই গেলো। রাষ্ট্রের যেখানে নিজস্ব আয় নেই। সেখানে এত এমপির খরচ রাষ্ট্র কখনও বহন করতে পারে না। তাই প্রতিটা দল ক্ষমতায় এসে। জনগণের উপরে কর বসিয়ে দেয় মোটা অংকের। আর এখানেই সবচেয়ে বড় সমস্যা থেকে গেলো। কোন সরকারই জনগণের সেবা সঠিকভাবে করতে পারে না। এমপিরা দেশপ্রেম দেখানো রেখে অহংকারী হয়ে উঠে সবাই। যেটাকে বলে পরের ধনে পোদ্দারী।
সারাজীবন প্রতিটা সরকার দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিল। এর প্রমাণ বাংলাদেশের প্রতিটা নাগরিক জানেন। বর্তমান সরকার যাদেরকে নির্বাচন সংস্কার কভিশনসহ বিভিন্ন কমিশনের প্রধান করা হয়েছে। তারা কেউ সুন্দর কিছু উপহার দিতে পারেননি। এর মানে হলো তাদের বড় বড় ডিগ্রী আছে ঠিকই। কিন্তু শিক্ষিত নন। তারা কেউ প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্র গবেষক নন। দেশপ্রেমিক নন। এটাই চরম সত্যি। এটা আমার চ্যালেঞ্জ।
এরকম একটি গবেষণা টিম এখানে লাগবে। যারা ধর্ম ভিত্তিক যদিও কিছু পরিবর্তন করেন। তবে আধুনিকতা থাকা প্রয়োজন। আগামী জাতীয় নির্বাচন করা প্রয়োজন প্যানেল পদ্ধতিতে। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টা, বিভাগীয় প্রধান এবং বাকীরা হবেন মন্ত্রী পরিষদ সদস্য। গত নয় মাসে এমন কোনো বুদ্ধিজীবীকে বলতে শুনিনি যে, আসন কমাতে হবে। অথচ কোনো কোনো রাজনৈতিক দল ছয়শ আসন করার জন্য ও প্রস্তাব দিয়েছেন। যাদের মাথায় গোবর ভর্তি রয়েছে বললেও ভুল হবে না।
সমগ্র জাতির কল্যাণ করতে হলে। চার বছরের জন্য চব্বিশ সদস্যর একটি কমিটিকে নির্বাচিত করা প্রয়োজন। চার বছর পর সমগ্র জাতি সিদ্ধান্ত নেবেন। পরবর্তী নির্বাচন কিভাবে হবে? আমরা বোকার মত তিনশ আসনের সংসদ রেখেছি বলেই। চুয়ান্ন বছরেও আমরা যেমন করতে পারিনি দেশ উন্নয়ন, তেমনি সমগ্র জাতি হতে পারিনি শিক্ষিত। স্বাস্থ্য সেবায় আনতে পারিনি সততা। আর্থিক সংকট থাকলে একটি পরিবারের যে অবস্থা হয়। তাই হয়েছে সমগ্র দেশের। তিনশ আসনের সংসদের কারণেই যে আমরা উন্নত হতে পারলাম না। এরকম একটি বিবৃতি কোনো শিক্ষিত সমাজের মুখে শুনিনি। তাহলে এই শিক্ষার গুণ কি? এরকম শিক্ষা অর্জন করলেই বা লাভ কি?
অথই নূরুল আমিন
কবি কলামিস্ট ও রাষ্ট্র বিজ্ঞানী
৫ মে ২০২৫