
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাড়ল দারিদ্র্য, নতুন করে ৩০ লাখ মানুষ নিঃস্ব!
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের অর্থনীতি ও দারিদ্র্য বিমোচনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রত্যাশা ছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়ে বিভিন্ন আশাব্যঞ্জক বক্তব্য দেন।
তবে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ ও গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষণ ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তার দায়িত্বকালীন সময়ে দেশে নতুন করে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের স্থবিরতা, নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সীমিত কার্যকারিতা—এসব কারণ দারিদ্র্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে কাঠামোগত সংস্কার ও দীর্ঘমেয়াদি দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি বাস্তবায়নের একটি বড় সুযোগ ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণে সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি।
বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চল ও নিম্নআয়ের শহুরে জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। খাদ্য, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, টেকসই দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য প্রয়োজন—
কর্মসংস্থানমুখী বিনিয়োগ বৃদ্ধি
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতি
দারিদ্র্য হ্রাসে সরকারের ভবিষ্যৎ নীতিমালা ও কার্যক্রম এখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। অর্থনীতির পুনরুদ্ধার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।