
নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে আঁতাত করার অভিযোগ এসেছে পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলা বিএনপির সদস্য মিজানুর রহমান সিকদার এর বিরুদ্ধে। আজ শনিবার দুপুর ১২ টায় মতিঝিল বিএডিসি ভবনের সামনে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত বিএডিসির অস্থায়ী কর্মীরা বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করে।বিএডিসির বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করে।এসব শ্রমিকদের অধিকাংশ পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে বেশকিছু প্রকল্প গ্রহণ করা হয় এবং এগুলো বাস্তবায়নের জন্য শ্রমিক হিসেবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে হাসিনার আমলে।৫ আগস্টের পরে বর্তমান অন্তরবর্তীকালীন সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে সরকার বিরোধী আন্দোলন করে।
আজ বিএডিসির সামনে যারা আন্দোলন করেছে তাদের প্রায় সবাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী।পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলার বাশবাড়ীয়া গ্রামে ২০১১ সালে বীজ ভান্ডার প্রকল্প নেয়া হয় এবং এই প্রকল্প উদ্ধোধন করতে ফ্যাসিস্ট হাসিনা বাশবাড়ীয়া চরে যায়। এ প্রকল্পের ৯৫ ভাগ কর্মচারী শ্রমিক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী।৫ আগস্টের পরেও আওয়ামী লীগের এসব নেতাকর্মীরা বহাল তবিয়তে চাকরি করছে।তারা আজ সরকার কে বিব্রত করতে বিএডিসি ভবনের সামনে আন্দোলন করে। তাদের মধ্যে দশমিনা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন হাওলাদার, ৭নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিন হাওলাদার, ৬নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরজামাল গাজীসহ ১০-১৫ জন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। এদের মধ্যে যুবলীগ নেতা বাচ্চু মৃধার বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের পরে দশমিনা থানায় ও ঢাকায় একটি হত্যা মামলা রয়েছে ।আওয়ামী লীগের এসব নেতাকর্মীদের সাথে বিএডিসি ভবনের পাশে ছবিতে দেখা যায় বিএনপি নেতা মিজান সিকদারকে।
অভিযোগ রয়েছে মিজান সিকদার এর বাবা সুলতান সিকদার আমৃত্যু বাশবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।তিনি নিজেও ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল।তার ভাই দশমিনা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম শানু।অভিযোগ রয়েছে শাহ আলম শানু ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার ভাইকে উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপিতে পদ দিয়েছেন। মিজান সিকদার এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে এবং তার শেল্টারে বাশবাড়ীয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সদর্পে ঘুরে বেড়ায় এবং ব্যবসা বানিজ্য,ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করে। মিজান সিকদার দলের দু:সময়ে কোনো ভূমিকা পালন না করলেও এখন এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন।এতে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অভিযোগ রয়েছে আজকের বিএডিসির সামনের সরকার বিরোধী আন্দোলনে মিজান সিকদার তার কর্মীদের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে দল ভারি করার জন্য পাঠিয়েছেন এবং নিজে নেপথ্যে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাশবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির এক দায়িত্বশীল নেতা জানান, আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপি করতে এসে মিজান সিকদার দলের নিয়ম নীতি লংঘন করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করছে।তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।