
উত্তরায় সরকারি জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ, তুরাগবাসীর বিচার দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর উত্তরা তুরাগ থানাধীন ১৮ নম্বর সেক্টরের বউবাজার এলাকার ১০ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় সরকারি জমি দখল করে চাঁদাবাজির অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে শহীদের নামে । রাজউক ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নামে থাকা ওই জমি দখল করে দোকান-নার্সারি তোলার কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার ভাষ্য অনুযায়ী, “শহিদ” নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ১০ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন খালি সরকারি জমি নিজের দখলে রেখেছেন। এরপর বিভিন্ন মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে বলা হচ্ছে, এখানে দোকান বা নার্সারি তুলে দিলে ভালো ব্যবসা হবে। সেই কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পর অনেককেই আর জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয় না। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে হুমকি-ধমকি ও মারধরের ভয় দেখানো হয়।
সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব, প্রতারিত হচ্ছে মানুষ
স্থানীয়রা জানান, দখল হওয়া জমিগুলোর মালিকানা রাজউক ও ডিএনসিসির নামে থাকলেও কোনো ধরনের বৈধ অনুমতি বা কাগজপত্র ছাড়াই সেখানে টিন-বাঁশের স্থাপনা তুলে তা ভাড়া দেওয়া হচ্ছে।
এতে একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ জমির বৈধতা না বুঝে প্রতারিত হয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে। বউবাজারের এক বাসিন্দা বলেন,
> “আমরা এখানে ২০ বছর ধরে বাস করি। আগে জমিটা খালি ছিল। এখন কয়েক মাস ধরে দেখছি রাতের আঁধারে দোকান বসানো হচ্ছে। যারা টাকা দিচ্ছে তারা পরে এসে কান্নাকাটি করছে।”
তুরাগবাসীর দাবি: দ্রুত অভিযান ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
এই ঘটনার প্রতিবাদে তুরাগের সচেতন নাগরিকরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের মূল দাবিগুলো হলো:
– *অভিযুক্ত “শহিদ”কে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক
– *দখলকৃত সরকারি জমি উদ্ধার করে রাজউক ও ডিএনসিসির কাছে হস্তান্তর*
– *চাঁদাবাজির সাথে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা*
– *ভবিষ্যতে যেন আর কেউ সরকারি জমি দখল করতে না পারে সে জন্য নিয়মিত নজরদারি*
তারা বলছেন, উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টর একটি পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা। এখানে সরকারি জমি এভাবে দখল হলে পুরো এলাকার পরিবেশ ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।
প্রশাসন কী বলছে
এ বিষয়ে অভিযুক্ত “শহিদ”-এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তুরাগ থানার ওসি জানান,
> “এখনো এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ আমরা পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে রাজউকের স্থানীয় কার্যালয় ও ডিএনসিসির পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে,
> “সরকারি জমি দখলের বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। সরেজমিনে যাচাই করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রাজধানীর বিভিন্ন সেক্টরে সরকারি জমি ও দখলের অভিযোগ নতুন নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান ও দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর মামলা না হলে এ ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধ করা কঠিন।
তুরাগবাসী এখন প্রশাসনের দিকেই তাকিয়ে আছে। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত অভিযানের মাধ্যমে সরকারি সম্পদ রক্ষা হবে এবং সাধারণ মানুষ প্রতারণার হাত থেকে রেহাই পাবে।