1. admin@dailybanglanewstv.com : admin :
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
৫৩ নং ওয়ার্ডে তরুণ সমাজসেবক মোঃ আব্দুল আলীকে ঘিরে ভোটারদের আগ্রহ ঢাকা-১৮ আসনে এ বিনামূল্যে “আলোকিত কুরআন ২০২৬ সহজ কুরআন” কার্যক্রমের উদ্বোধন মহিলা ও শিশুদের অগ্রাধিকার, ওয়ার্ড ভিত্তিক কার্যক্রম শুরু এই ১ম ফুলপুরে কলেজ ভিত্তিক ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী শহীদ জিয়া- ও খালেদা জিয়ার আদর্শে রাজনীতি করতে চান আরাফাত রহমান কোকোর ক্রিয়া সংসদের তুরাগ থানার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান ভুলু, সততা ও বৃক্ষপ্রেমে অনুপ্রেরণা শহীদ জিয়া- ও খালেদা জিয়ার আদর্শে রাজনীতি করতে চান আরাফাত রহমান কোকোর ক্রিয়া সংসদের তুরাগ থানারন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান ভুলু, সততা ও বৃক্ষপ্রেমে অনুপ্রেরণা শহীদ জিয়া- ও খালেদা জিয়ার আদর্শে রাজনীতি করতে চান আরাফাত রহমান ক্রিয়া সংসদের কোকো তুরাগ থানা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান ভুলু, সততা ও বৃক্ষপ্রেমে অনুপ্রেরণা ‎৩য় বারের মতো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হলেন সাংবাদিক ডলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ফুলপুরে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের প্রতিনিধির মতবিনিময় উত্তরায় রানাভোলা কাউন্সিলর মাঠে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নাইট মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন করা হয়

কলসী ভরা গুপ্তধন ( একটি রূপকথার গল্প )

অথই নূরুল আমিন
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৮ জুলাই, ২০২৫
  • ১০৮ বার পঠিত

কলসী ভরা গুপ্তধন ( একটি রূপকথার গল্প )

অথই নূরুল আমিন

কলসী ভরা গুপ্তধন এই গল্পটি অনেক অনেকদিন আগের একটি গল্প। পৃথিবীতে যত আতশী আছে। সেই আতশী জাতের মধ্যে অনেকগুলো জাত আছে। সেই জাতের মধ্যে একটি জাত হলো আজরা। এই আজরা দিনের বেলায় তারা সাপের রূপ ধরে বিভিন্ন জায়গায় থাকে। আর রাতের বেলায় মানুষসহ তারা বিভিন্ন রূপ ধারণ করতে পারে। এমনকি ওরা মানুষের মত দিব্বি কথাও বলতে পারে।

কুমুদপুর গ্রামে অনেক পুরানো একটি মন্দির রয়েছে। এই মন্দিরে এখন আর পূজারীরা রক্ষনাবেক্ষণ করেনা। প্রায় শত বছর ধরে এই মন্দিরটি অনাদরে পরে আছে। কারণ এখানে এখন হিন্দু সম্প্রদায়ের কেউ বসবাস করে না। এখন এই কুমুদপুর গ্রামে যারা বসবাস করছে তারা সবাই অন্য ধর্মের লোকজন। তবে মন্দিরটি একটি বিরাট আকারের জঙ্গল হওয়াতে সেখানে আসলেই ভয়ে কেউ যায় না। এরকম একটি অরক্ষিত জায়গায় মন্দিরটি হওয়ার ফলে গুপ্তধন পাহারাদার একদল আতশী। এই মন্দিরের নীচে অসংখ্য গুপ্তধন রেখে যায়। কোন এক গভীর রাতে। আর এই গুপ্তধন এখন পাহারা দেয় এখানের কয়েকজন আতশী রুপী আজরা। কোন একদিন সন্ধ্যায় দুজন আজরা মানুষের রুপ ধরে জঙ্গলের পাশের পথে দাড়িয়ে আছে। তারা দেখল একজন গরীব লোক এই রাস্তার সামনের দিকে আসছে। সেই গরিব লোকটি যখন খুব কাছে এলো।

আজরা-১ : এই ভাই, তুমি কি এই এলাকায় থাকো?
পথিক: হ্যা, এই তো পিছন পাড়া আমার বাড়ি।
আজরা-২: ভাই, তুমি কি আমাদের কয়েকটি কলসী ধুয়ে দিতে পারবে? অনেক টাকা মায়নে দেব।
পথিক: ঠিক আছে? আমি ধুয়ে দিতে পারবো।

আজরা-১: তাহলে আগামী কাল এমন সময় তুমি এখানে আসবে। আমরা তোমাকে এসে নিয়ে যাবো। আর সাথে করে কয়েকটি নারিকেলের শুকনা ছোলা নিয়ে আসবে কেমন?
পথিক: ঠিক আছে।
আজরা-২: আর শুনো, সাথে করে কিন্তু কাউকে নিয়ে আসবেনা। তুমি একাই আসবে ঠিক আছে।
পথিক: ঠিক আছে। (দৃশ্য পতন)

দৃশ্য দেখা যাবে সেই পথিক কিছু নারকেলের ছোলা নিয়ে এলো। তারপর মানুষ রুপী আজরারা সেই গরিব লোকটিকে সেই পুরাতন মন্দিরের কাছে নিয়ে এলো। এবং দশটি কলসী দেখিয়ে আজরারা বলল,
আজরা: এই কলসীগুলো খুব ভাল করে ধুয়ে দাও।
পথিক: ঠিক আছে।
তারপর সেই গরিব লোকটি এই কলসীগুলো খুব যত্নসহকারে পরিস্কার করে দিল। তারপর এই আজরারা তাকে অনেকগুলো স্বর্ণমুদ্রা মজুরী হিসাবে দিল।
আজরা-১: এই ধরো তোমার পরিশ্রমের টাকা। আর শুনো, সাবধান কারো কাছে এই গুপ্তধনের কথা প্রকাশ করবে না। যদি কারো কাছে এই খবর প্রকাশ করো তোমার মৃত্যু কেউ ঠেকাতে পারবে না। কথাটি মনে রেখো।
পথিক: ঠিক আছে। আমি কাউকে কিছু বলবনা।
(দৃশ্য পতন)

কয়েকদিন পর দেখা গেল। সেই লোকটির বাড়িতে একটি নতুন ঘর বাধল। তার দুটি গরুও আছে। এসব দেখে পাড়া প্রতিবেশি সবার মুখে এক কথা। মন্টু গুপ্তধনের সন্ধান পেয়েছে। এরকম আলোচনা চার দিকে ছড়িয়ে পরেছে। মাঝে মাঝে প্রতিবেশীরা তার বাড়িতে আসে। তার মুখ দেখে অনেকেই প্রতিহিংসা করে। কেউ কেউ তাকে প্রশ্ন করে। মন্টু তুমি এই গুপ্তধন কোথায় পেয়েছো। মন্টু তার কোন জবাব দেয়না। কে বলেছে? কে বলেছে? বলে এড়িয়ে যায় মন্টু। কিন্তু না, তা আর হলো না। একদিন সকালে অত্র এলাকার একজন সমাজপতি এলো মন্টুর বাড়িতে।

সমাজপতি: এই মন্টু। মন্টু কি বাড়িতে আছো? (তখন মন্টু ঘর থেকে বের হবে।) মন্টু তুমি নাকি গুপ্তধন পেয়েছো? কি সুন্দর ঘর। আবার গরু ও আছে। জমি কিনেছো? দুমাস আগেও তো তোমার কিছুই ছিলনা।

মন্টু: আপনার কথা সত্যি মাতবর সাব। আমি তো আসলেই গরিব ছিলাম।
সমাজপতি: তাহলে আমার কাছে বলো তুমি কিভাবে গুপ্তধন পেয়েছো? তা না হলে আমি তোমাকে পুলিশে ধরিয়ে দেব। কথাটা মনে রেখ।

তখন গরিব লোকটি আরো ভয় পেয়ে যায়। তাই সমাজপতির কাছে সেই দিনের কথা যখন সব বর্ণনা দিতে থাকে।
দৃশ্য- (দেখা যাবে সেই মন্দির। সেই কলসী ধুয়ার দৃশ্য এবং মানুষের রুপী আজরাদের।)

পরের দিন গভীর রাতে সেই সমাজপতি ধীরে ধীরে সেই পুরাতন মন্দিরের কাছে যায়। সেই মন্দিরের নীচ থেকে গুপ্তধন ভরা একটি কলসী উপরে উঠায়। এই মধ্যে বিশাল বড় দুই সাপ এবং আজরা এসে সামনে দাড়ায়।

সাপ-১: কি হে লোভী মানুষ। তোর মৃত্যু তোকে এখানে নিয়ে এসেছে। আরে মুর্খ তুই জানিস না। গুপ্তধন কখনও চুরি করে নেওয়া যায়না।

এদিকে সমাজপতি সাপ দেখে অনেক ভয় পেয়ে গেল। সমাজপতি কলসী রেখেই পালাতে চেষ্টা করল। কিন্তু না তার আগেই সাপ তাকে ছোবল মারে। সঙ্গে সঙ্গে সমাজপতির এখানেই মুত্যু হয়। তারপর কলসী ভরা গুপ্তধন নিয়ে এই রাতেই অন্য কোন রাজ্যে আজরারা চলে গেল। তখন থেকেই আমাদের দেশে গুপ্তধন খুব কম মানুষেই পেয়েছে। কথা থাকে যে, গুপ্তধন চুরি করে কেউ পাবে না। এমনকি গুপ্তধন চালাকী করে কেউ পাবে না। গুপ্তধন হচ্ছে ভাগ্যের অবদান। যাদের ভাগ্যে আছে। শুধু তারাই পাবে কলসী ভরা গুপ্তধন।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর