
নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকায় দেশের বাজারে জুন মাসের জন্য তিন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। তবে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। রোববার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার কেরোসিনের দাম ১৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা, পেট্রলের দাম ১৩৫ টাকা থেকে ১৪০ টাকা এবং অকটেনের দাম ১৪০ টাকা থেকে ১৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১১৫ টাকায় অপরিবর্তিত থাকবে। নতুন মূল্য সোমবার রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল ২০২২ সালের আগস্টে। তখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে ডিজেলের দাম এক লাফে ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১১৪ টাকা করা হয়। ব্যাপক সমালোচনার মুখে পরে একই মাসে ৫ টাকা কমানো হয়েছিল। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে জ্বালানি তেল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে পৌঁছায়। জুন মাসে নতুন করে পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম আরও বৃদ্ধি পেল। সরকার ২০২৪ সালের মার্চ মাস থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি চালু করে। এর আওতায় আগের মাসে আমদানি করা জ্বালানি তেলের গড় খরচ বিবেচনায় নিয়ে প্রতি মাসে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হয়। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে। তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিলে দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। তবে গত ২০ এপ্রিল থেকে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে। জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে আগামী মাসগুলোতেও জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা হতে পারে।
Top of Form