
বেহায়া নির্লজ্জ মেয়ে
কবি ও সাংবাদিক মোঃ সোহাগ মিয়া
সে হাঁটে রাস্তার মাঝখান দিয়ে,
চোখে কোনো ভয় নেই, ঠোঁটে নেই লাজ।
দুনিয়ার সব নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে
নিজের ছন্দে বাজায় নিজের সাজ।
লোকে বলে “মাথা নিচু কর”
সে মাথা তুলে আকাশ দেখে।
বলে “চুপ করে থাক”
সে গলা ছেড়ে হেসে ওঠে।
শাড়ির আঁচল উড়ে যায় ঝড়ের মতো,
কারো কথায় তার গতি থামে না।
পাড়ার চায়ের দোকানে গল্প জমে তার নামে,
“বেহায়া, নির্লজ্জ, বড্ড বেয়াড়া” —
সব বিশেষণ তার গায়ে সেঁটে যায়,
আর সে? সে শুধু কাঁধ ঝাঁকিয়ে চলে যায়।
রাত জেগে মোবাইল দেখে
দিনে অন্যকে নিয়ে গান গায়।
ছেলেদের সাথে আড্ডা দেয়,
নিজের টাকায় নিজে চা খায়।
“মেয়েদের এমন হয় না” —
এই বাক্যটাকে সে ডাস্টবিনে ফেলেছে কবে।
তার ডায়েরির পাতায় লেখা,
“আমি আমার, কারো নিয়মের ছায়া না।”
কেউ বলে চরিত্র খারাপ,
কেউ বলে সাহসী।
কেউ বলে বেহায়া,
সে নিজেকে বলে — মুক্ত।
সমাজের চার দেয়ালে তার দম বন্ধ হয়,
তাই সে দেয়াল ভেঙে রোদে বের হয়।
ভুল করলে স্বীকার করে না
ঠকলে নিজেই সামলে নেয়।
কারো করুণা চায় না,
কারো অনুমতির তোয়াক্কা করে না।
হ্যাঁ, সে বেহায়া।
কারণ অন্যায়ের সামনে লজ্জা পায় না।
হ্যাঁ, সে নির্লজ্জ।
কারণ নিজের স্বপ্নের জন্য ক্ষমা চায় না।
একদিন এই শহরের সব মেয়ে
যখন নিজের মতো করে বাঁচতে শিখবে,
সেদিন বুঝবে —
এই “বেহায়া নির্লজ্জ মেয়ে”টাই
আসলে পথটা দেখিয়ে দিয়ে গেছে।