
*মিথ্যা বলা মহাপাপ*
কবি ও সাংবাদিক মোঃ সোহাগ মিয়া
সত্যের গায়ে কাদা যে হাত,
সেই হাত একদিন নিজের মুখেই কালি মাখে।
একটা মিথ্যা পথে নামলে,
সামনে আর পথ থাকে না, থাকে শুধু গলি।
আর সেই গলির শেষে অন্ধকার।
মিথ্যা বলা মহাপ, দাদু বলতো চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে।
“বেটা, সত্যি বললে গলা কাঁপে, পা কাঁপে।
কিন্তু রাতে ঘুমটা আরামে আসে।
আর মিথ্যা বললে মুখে হাসি, বুকে হাজারটা দড়ি।”
বাজারে ওজনে দুইশো গ্রাম কম দেয়া লোকটা,
বাড়ি ফিরে ছেলের কাছে অংক বুঝিয়ে দিতে পারে না।
কারণ তার হিসাবের খাতায় নিজেরই গড়মিল।
অফিসে বসকে খুশি করতে মিথ্যা রিপোর্ট দেয়া ছেলেটা,
রাতে বালিশে মাথা রাখতেই বুকের ভেতর হাতুড়ি পেটে।
মিথ্যা হলো বালির ঘর।
উপরে রংচঙে, ভেতরে ফাঁপা।
একটা ঢেউ আসলেই সব ভেঙে যায়।
আর সেই ভাঙার শব্দে আশেপাশের মানুষগুলোও ঘুম ভেঙে জেগে ওঠে।
সত্যি কখনও কখনও ধারালো ছুরির মতো।
কেটে যায়, রক্ত ঝরে।
কিন্তু ঘা শুকায়। দাগ থাকে না।
মিথ্যা? ওটা নরম তুলোর মতো।
প্রথমে আরাম দেয়, তারপর দম বন্ধ করে মারে।
নবীরা সত্য বলেছেন জেল খেটেছেন।
মুক্তিযোদ্ধারা সত্যের জন্য বুক পেতেছেন।
কারণ তারা জানত,
একটা জাতি দাঁড়ায় সত্যের পায়ের উপর।
মিথ্যার পায়ে দাঁড়ানো জাতি একদিন হুমড়ি খেয়ে পড়ে।
আজ তুমি বন্ধুকে ঠকিয়ে হাসলে,
কাল সেই বন্ধুই তোমার বিপদে পিঠ দেখাবে।
আজ মেয়েকে মিথ্যা বলে স্কুলে পাঠালে,
কাল সে-ও তোমাকে মিথ্যা বলেই বড় হবে।
বীজ যেমন বুনবে, ফসল তেমনই পাবে।
তাই জিভটাকে লাগাম দাও।
কথা বলার আগে তিনবার ভাবো।
এই কথায় কারো চোখে পানি আসবে?
এই কথায় কারো সংসার ভাঙবে?
যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তবে চুপ থাকো।
চুপ থাকাও সত্যের একটা রূপ।
সত্যের দাম বেশি। তাই সবাই কিনতে পারে না।
মিথ্যা সস্তা। তাই হাতের কাছেই পাওয়া যায়।
কিন্তু মনে রেখো,
সস্তা জিনিস তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়।
আর দামি জিনিস প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকে থাকে।
শেষ বিচারের দিনে ওজন হবে আমলের।
সেদিন মিথ্যার পাল্লা হালকা হয়ে যাবে।
আর সত্যের একটা কথাই পাহাড় হয়ে দাঁড়াবে।
তাই আসো, আজ থেকে শপথ করি।
ছোট হোক, বড় হোক, সত্য বলব।
গলা কাঁপলেও সত্য বলব।
কারণ মিথ্যা বলা মহাপ।
আর মানুষ হয়ে জন্মেছি, মানুষের মতোই বাঁচতে হবে।