
স্থান: মহব্বতপুর, তারাকান্দা, ময়মনসিংহ
১৯৭১-এ এক রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছরের বেশি সময় পরেও ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার মহব্বতপুর গ্রামের মানুষ এখনো ‘পরাধীন’। পরাধীন না কোনো বিদেশি শক্তির কাছে, বরং উন্নয়ন বঞ্চনার শৃঙ্খলে।
মহব্বতপুরে নেই কোনো ওয়ার্ড মেম্বার, নেই ইউনিয়ন পরিষদের কার্যকরী তদারকি। স্থানীয়দের দাবি, তাদের গ্রামটি এককভাবে কোনো ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত নয়, অথবা সীমানা জটিলতায় পড়ে গেছে। ফলে চেয়ারম্যান কিংবা মেম্বারের কোন নজরদারি নেই গ্রামটিতে।
“ভোটের সময় নেতারা আসে, প্রতিশ্রুতি দেয়। তারপর পাঁচ বছর খুঁজেও পাই না কাউকে,” — বলেন স্থানীয় একজন প্রবীণ।
বর্ষাকালে কাদায় ডুবে যায় রাস্তাঘাট, শুকনো মৌসুমে ধুলোয় অন্ধকার। স্কুলে যেতে হয় হাঁটু কাদা মাড়িয়ে, রোগীকে হাসপাতালে নিতে হয় বাঁশের খাটিয়ায়। বিদ্যুৎ এলেও লো-ভোল্টেজ ও ঘন ঘন লোডশেডিং যেন নিত্য সঙ্গী।
গ্রামে , নেই চিকিৎসাকেন্দ্র। সবচেয়ে কাছের ক্লিনিক ৬ কিলোমিটার দূরে। শিক্ষার হারও নিম্নমুখী—বিশেষ করে মেয়েদের স্কুলছুট হওয়ার হার বেশি।
বৃদ্ধ রশিদ মিয়া বলেন,
“আমি পাকিস্তান দেখছি, যুদ্ধ দেখছি, স্বাধীনতা দেখছি। কিন্তু জীবনে কোনো উন্নয়ন দেখি নাই। স্বাধীনতা কাগজে আছে, গ্রামে নাই!”
এমন অবস্থায় প্রশ্ন উঠে—কেন এই গ্রাম প্রশাসনিক কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত নয়? ইউনিয়ন পরিষদ বা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা বলছেন, বারবার আবেদন করেও কোনো সাড়া মেলেনি।
গ্রামকে ইউনিয়নের আওতায় আনতে হবে প্রশাসনিকভাবে
দ্রুত মেম্বার ও চেয়ারম্যান মনোনয়ন নিশ্চিত করতে হবে
গ্রামে রাস্তাঘাট, স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ করতে হবে
সরকারি নজরদারি ও বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে
বাংলাদেশ ডিজিটাল হোক, স্মার্ট হোক—তা হোক উন্নয়নশীল দেশের তালিকায়। কিন্তু এই মহব্বতপুরের মতো অবহেলিত গ্রামগুলো রয়ে গেলে স্বাধীনতার স্বপ্ন শুধুই শহরের বাতিতে সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।
আজ, স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরেও যদি কোনো মানুষ নিজ ভূমিতে প্রশাসনিক স্বীকৃতি না পায়—তবে সত্যিকার অর্থে আমরা কতটুকু স্বাধীন?