
Transfer of Property Act, 2026 ইসলামি শরিয়তবিরোধী: মুফতী নেছার উদ্দীন আহমাদ
মোঃ সোহাগ মিয়া উত্তরা
উত্তরা, ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬:
Transfer of Property Act, 2026-এর কিছু বিধান ইসলামি শরিয়তের হেবা আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেছেন ভাটুলিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মুফতী নেছার উদ্দীন আহমাদ।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) পবিত্র জুমার বয়ানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ইসলামি শরিয়তে হেবা বা দানের ক্ষেত্রে মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর কোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে হেবা কার্যকর হয় না।
১. ইজাব বা দাতার ঘোষণা: দাতা স্পষ্টভাবে সম্পত্তি দেওয়ার ঘোষণা করবেন।
২. কবুল বা গ্রহীতার গ্রহণ: যাকে সম্পত্তি দেওয়া হচ্ছে, তাকে তা গ্রহণ করতে হবে।
৩. দখল হস্তান্তর: হেবা করা সম্পত্তির দখল গ্রহীতার কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
তিনি বলেন, Transfer of Property Act, 2026-এ এমন বিধানের কথা বলা হয়েছে, যেখানে দাতা চাইলে এমন শর্ত যুক্ত করতে পারেন যে, দাতার মৃত্যুর আগে গ্রহীতা সম্পত্তির দখল নিতে পারবেন না। তাঁর দাবি, এ ধরনের বিধান ইসলামি হেবা আইনের তৃতীয় শর্ত—দখল হস্তান্তরের—সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
মুফতী নেছার উদ্দীন আহমাদ বলেন, “ইসলামি শরিয়তের কোনো বিধান পরিবর্তন বা তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন প্রণয়ন করা যাবে না। হেবা করতে হলে ইসলামি শরিয়তের হেবা আইন পরিপুর্ণ অনুসরণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, একজন বাবা মারা গেলে তাঁর সন্তানরা ইসলামি উত্তরাধিকার আইনের বিধান অনুযায়ী সম্পত্তির ওয়ারিশ হন। সে ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারীদের প্রাপ্য অংশ এড়িয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে হেবা ব্যবস্থার অপব্যবহার করা সম্পুর্ণ না জায়েজ একটি কাজ হবে ।
তিনি বলেন, নতুন এই আইনের মাধ্যমে মানুষকে ইসলামি উত্তরাধিকার ও সম্পত্তি বণ্টননীতির পরিবর্তে ভিন্ন ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে যা এ দেশের ধর্ম প্রান মানুষেরা কখনোই মেনে নিবে না। এ বিষয়ে তিনি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, Transfer of Property Act, 2026 পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে দেশের অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য আলেমদের সঙ্গে পরামর্শ করে আইনটির যেসব বিষয় ইসলামি শরিয়তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, সেগুলো সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।