
এই সেই ফুচকাওয়ালী যে কিনা গজারিয়া উপজেলা আড়ালিয়া গ্রামের।
মোঃ দুলাল সরকার গজারিয়ায় প্রতিনিধি
। শতাধিক মানুষের কাছ থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে নাটকীয়তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আজকে গজারিয়া থেকে ৩০/৪০ জন মানুষ তাকে ধরে আনার জন্য দাউদকান্দি উপজেলায় যায়। সেখানে যাবার পর মারামারি সহ দিনভর নানা নাটকীয়তার পর তাকে গজারিয়াতে ধরে নিয়ে আসা হয়।
এবার চলুন ঘটনার মূলে যাইঃ
এই ফুচকাওয়ালী গত প্রায় দেড় বছর আগে দাউদকান্দি থেকে গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের আড়ালিয়া গ্রামে আসেন। এখানে তিনি একটি ফুচকার দোকান খোলেন। এসময় স্থানীয়দের সাথে তার সখ্যতা বাড়লে থাকলে তার এক কসাই আত্মীয়ের দোকানে অর্থ বিনিয়োগে তিনি স্থানীয়দের আগ্রহী করে তোলেন। প্রতি এক লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে সুদ হিসেবে প্রতি সপ্তাহে ১০ কেজি করে গরুর মাংস দেওয়া হত। সেই হিসেবে এক লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে প্রতি মাসে ২৮-৩২ হাজার টাকা গরুর মাংস সুদ হিসেবে পেতেন স্থানীয় লোকজন। একটা সময় পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছিল তিনি এক লক্ষ টাকায় এক মাসে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদ দিয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের লোভের মাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। কেউ নিজের গহনাগাটি,জায়গা-জমি বিক্রি করে, কেউ আবার ব্যাংক, আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে টাকা লোনে এনে তাকে দিয়েছে। পালিয়ে যাওয়ার আগ মুহূর্তে এই মহিলা কৌশল করে অনেকের কাছ থেকে ব্ল্যাংক চেক নিয়েছে। সর্বশেষ যা হওয়ার তাই হয়েছে। এক লক্ষ টাকায় এক মাসে ৬০ হাজার টাকার সুদ মানুষ কিভাবে দিতে পারে! ইউপি সদস্য সহ অনেক মানুষ তার ফাঁদে পড়েছে। এরা কি লোভে সবাই অন্ধ হয়ে গিয়েছিল?
শুধু এই ঘটনা নয় বিভিন্ন ঘটনায় বারবার এটাই প্রমাণ হচ্ছে আড়ালিয়া গ্রামের মানুষের লোভ অনেক বেশি। চলতি বছরের এপ্রিল মাসের বোমা উদ্ধারের কথাটি আপনাদের মনে থাকার কথা। মারাত্মক একটি বোমাকে তারা গুপ্তধন হিসেবে মনে করে সেই টাকা কিভাবে ভাগাভাগি হবে তা নিয়ে কমিটি পর্যন্ত করে ফেলেছিল।