নিজস্ব প্রতিবেদক:
অনুকূল আবহাওয়া ও উর্বর মাটির কারণে উত্তরাঞ্চলের জেলা লালমনিরহাট-এ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাণিজ্যিক পান চাষ। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পান চাষ করে সফলতা পেয়েছেন কৃষকরা। অনেকেই বরজ থেকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিচ্ছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন বাণিজ্যিকভাবে পান চাষ হচ্ছে। ফলন ভালো ও লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে। বর্তমানে জেলা সদর, আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৩৫টি পানের বরজ গড়ে উঠেছে। কৃষকদের দাবি, ধান, গম ও ভুট্টাসহ অন্যান্য ফসলের তুলনায় পান চাষে খরচ কম হলেও লাভ তুলনামূলক বেশি। এ কারণে জেলার কৃষকদের পাশাপাশি তরুণ উদ্যোক্তারাও পান চাষে ঝুঁকছেন। পানের ভালো ফলন হওয়ায় অনেক কৃষকের পরিবারে ফিরেছে সচ্ছলতা। তবে পান চাষিদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত বরজ পরিদর্শনে যান না। রোগবালাই দেখা দিলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতাও পাওয়া যায় না। তাদের মতে, নিয়মিত পরামর্শ ও তদারকি বাড়ানো হলে আরও বেশি কৃষক পান চাষে আগ্রহী হতেন। এদিকে, বাণিজ্যিকভাবে পান চাষ সম্প্রসারণের ফলে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক কর্মসংস্থান। বর্তমানে দুই শতাধিক মানুষ বিভিন্ন পান বরজে কাজ করছেন। আগে দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ থেকে শ্রমিক এনে কাজ করানো হলেও এখন স্থানীয় শ্রমিকরাই দক্ষতার সঙ্গে বরজ পরিচর্যার কাজ করছেন। স্থানীয় শ্রমিক উমর আলী বলেন, “আমার বড় ভাই ময়মনসিংহে গিয়ে দীর্ঘদিন পানের বরজে কাজ শিখেছেন। তার কাছ থেকেই আমি কাজ শিখে এলাকার বরজে কাজ করছি। প্রতিদিন ৫০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি পাই। আমার মতো অনেকেই এখন পান চাষের কাজে যুক্ত হয়ে পরিবার চালাচ্ছে।”কৃষকরা জানান, বর্তমানে বড় পানের এক বিড়া (৮০টি পান) ৯০ থেকে ১০০ টাকা, মাঝারি পানের বিড়া ৪০ থেকে ৪৫ টাকা এবং ছোট পানের বিড়া ২০ থেকে ২২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।এ বিষয়ে লালমনিরহাট সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মারুফা ইফতেখার সিদ্দিকা বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে জেলার কৃষকদের মধ্যে পান চাষের আগ্রহ বেড়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে পান চাষে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”






