
মাদক, কিশোর গ্যাং ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা ৫৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আবদুল আলীর
মোঃ সোহাগ মিয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর তুরাগ এলাকার সামাজিক নিরাপত্তা, যুবসমাজের উন্নয়ন এবং অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে মাদক, কিশোর গ্যাং ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি ঘোষণা করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী এবং তুরাগ থানা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য আবদুল আলী।
সম্প্রতি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, তরুণ সমাজ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি বলেন, “আমাদের তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে মাদক, কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি এবং অনলাইন জুয়া। এগুলোর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আমি নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডজুড়ে কঠোর নজরদারি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব অপরাধ নির্মূলে কাজ করব।”
আবদুল আলী বলেন, একটি সুস্থ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ওয়ার্ড গঠনে সর্বপ্রথম অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা জরুরি। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু চক্র তরুণদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মাদক সেবন, অনলাইন জুয়া এবং কিশোর গ্যাং কার্যক্রমে জড়িয়ে ফেলছে। এর ফলে পরিবার ও সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “তরুণদের খেলাধুলা, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে পারলে তারা বিপথগামী হবে না। এজন্য আমি ওয়ার্ডে যুব উন্নয়নকেন্দ্র, খেলাধুলার পরিবেশ এবং সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করব।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মাদক, কিশোর গ্যাং ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলে হবে না; অভিভাবক, শিক্ষক, সমাজের সচেতন ব্যক্তি এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করে বলেন, “যে কোনো অপরাধ, মাদক ব্যবসা বা কিশোর গ্যাংয়ের তথ্য গোপন না রেখে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।”
এ সময় উপস্থিত এলাকাবাসী আবদুল আলীর ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সমাজ থেকে মাদক ও অপরাধ নির্মূলে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকবে।
৫৩ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন আবদুল আলী। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন ওয়ার্ড গঠন, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনই হবে তার প্রধান অগ্রাধিকার।
স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আবদুল আলীর এই জিরো টলারেন্স ঘোষণাকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, মাদক, কিশোর গ্যাং ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তরুণ সমাজকে রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।