
*মিথ্যা অভিনয় মেয়ে*
কবি ও সাংবাদিক মোঃ সোহাগ মিয়া
সে হাসে, আর মনে হয় আকাশে রোদ উঠেছে
চোখের কোণে জল টলমল করে, কিন্তু জলটা তার কেনা
ঠোঁটে কফির কাপ, কথায় মধু, গল্পে ঝড়
আর বুকের ভেতর শীতের মতো ফাঁকা একটা ঘর।
সে বলে “তুমিই আমার শেষ ঠিকানা”
পরের দিনই অন্য কারো ছবিতে লাইক দেয় সবার আগে
সে বলে “আমি বদলে গেছি তোমার জন্য”
অথচ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পুরোনো স্ক্রিপ্টটাই মুখস্থ করে।
রাত বারোটায় মেসেজ আসে “ঘুম আসছে না”
সকালে দেখো স্টোরিতে সে কনসার্টে, হাতে নতুন হাত
ব্যথার অভিনয়টা এত নিখুঁত
অস্কার দিলেও কম হয়ে যায়।
সে ঝগড়া করে কান্না দিয়ে
মান ভাঙায় আদর দিয়ে
আর দূরে গেলে বলে “আমি তো মুক্ত পাখি”
খাঁচাটা আসলে সে নিজেই বানিয়েছিল, সোনালি রঙ করে।
বন্ধুরা জিজ্ঞেস করে “ও কেমন আছে?”
আমি বলি “ভালো আছে, খুব ভালো অভিনয় করছে”
কারণ সত্যিটা বললে কেউ বিশ্বাস করবে না
মিথ্যেটাই তো এখন বেশি সুন্দর, বেশি ভাইরাল।
তার চোখে স্বপ্নের বিজ্ঞাপন
কথায় প্রেমের সাবটাইটেল
আর বাস্তবে?
একটা ফাঁকা মঞ্চ, পড়ে থাকা প্রপস, আর নিভে যাওয়া আলো।
তবুও দোষ দিই না
এই শহরে সবাই তো একটু একটু অভিনেতা
কেউ টাকার জন্য, কেউ একাকীত্ব ঢাকতে
আর সে?
সে শুধু ভালোবাসা পাওয়ার ভয়ে
ভালোবাসার অভিনয়টা করে যায় রোজ।
শেষ দৃশ্যে সে পর্দার আড়ালে গিয়ে
নিজের মুখোশটা খুলে রাখে
তারপর ফিসফিস করে বলে
“আজকের শোটাও হাউসফুল গেল”
আর কেউ জানে না, হাততালির শব্দে
তার নিজের বুকটাই সবচেয়ে বেশি ফেটে যায়।