
*ফুলপুর-তারাকান্দায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ, এমপি মুফতি মুহাম্মদুল্লাহর ডিও’র বিপরীতে ১০টি প্রতিষ্ঠান পেল অনুদান*
মোঃ সোহাগ মিয়া নিজস্ব প্রতিনিধি
GSIDP-2 প্রকল্পের আওতায় বিরোধী দলীয় প্রতিটি সংসদ সদস্যের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন বাবদ ডিওপত্রের বিপরীতে ৩০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ অনুমোদন দিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে ৩০ বিধিতে দাঁড়িয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সকল বিরোধী দলীয় আসন মিলিয়ে এ খাতে মোট ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো দেশের বিভিন্ন এলাকায় মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা।
ফুলপুর-তারাকান্দায় ১০টি প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে ৩ লাখ করে
এরই ধারাবাহিকতায় ময়মনসিংহ-৩ ফুলপুর-তারাকান্দা আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মদুল্লাহর ডিওপত্রের বিপরীতে ১০টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ৩ লাখ টাকা করে মোট ৩০ লাখ টাকার বরাদ্দ অনুমোদিত হয়েছে।
বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফুলপুর-তারাকান্দা আসনে মুফতি মুহাম্মদুল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও এ বরাদ্দের খবরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা এমপির এ উদ্যোগকে এলাকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা জানান।
অনেকে পোস্টে লিখেছেন, দলমত নির্বিশেষে এলাকার উন্নয়ন হলে সাধারণ মানুষই উপকৃত হয়। এ ধরনের বরাদ্দ এলাকার শিক্ষা ও ধর্মীয় পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
এমপির মন্তব্য
এ বিষয়ে মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ বলেন, ফুলপুর-তারাকান্দার মানুষের উন্নয়নে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সমাজের নৈতিক ভিত্তি। এগুলোর উন্নয়ন হলে এলাকার শান্তি ও সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের এই সহযোগিতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতেও এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ধর্মীয় খাতের উন্নয়নে একইভাবে কাজ করে যাবেন। তিনি এলাকাবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন যাতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আরও বড় পরিসরে কাজ করা সম্ভব হয়।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
বরাদ্দের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ফুলপুর ও তারাকান্দার বিভিন্ন ইউনিয়নে আনন্দের সাড়া পড়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সদস্যরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সংকটে ভুগছিলেন তারা। এই বরাদ্দে মসজিদের সম্প্রসারণ, মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ করা সম্ভব হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, GSIDP-2 প্রকল্পের মাধ্যমে বিরোধী দলীয় এলাকাগুলোতেও সমানভাবে উন্নয়ন বরাদ্দ পৌঁছে দেওয়ার সরকারি উদ্যোগটি রাজনৈতিক সম্প্রীতির বার্তা দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, GSIDP-2 হলো স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি বিশেষ উন্নয়ন সহায়তা প্রকল্প। এর মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের সুপারিশের ভিত্তিতে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।