
মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা তুরাগ থানা বিএনপি নেতা আব্দুল আলীর
মোঃ সোহাগ মিয়া নিজস্ব প্রতিনিধি
উত্তরা তুরাগ এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন তুরাগ থানা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আব্দুল আলী।
মঙ্গলবার বিকেলে তুরাগের ৫৩ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভায় তিনি এই ঘোষণা দেন।
*যা বললেন আব্দুল আলী*
পথসভায় আব্দুল আলী বলেন,
“তুরাগের যুবসমাজ আজ মাদকের কারণে ধ্বংসের মুখে। স্কুল-কলেজের সামনে, গলিতে গলিতে মাদকের ছড়াছড়ি। এখানে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের জন্য কোনো ছাড় নেই। এটা হবে জিরো টলারেন্স।”
তিনি আরও বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মসজিদের ইমাম, শিক্ষক ও এলাকার মুরুব্বিদের সাথে নিয়ে আমরা প্রতিটি মহল্লায় মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করব। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় দেখে কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না।”
*কর্মপরিকল্পনা*
আব্দুল আলী তার ৫ দফা কর্মপরিকল্পনার কথা জানান:
1. *মাদকবিরোধী সেল গঠন*: ওয়ার্ডের প্রতিটি ব্লকে স্বেচ্ছাসেবী টিম তৈরি করে তথ্য সংগ্রহ।
2. *আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সমন্বয়*: নিয়মিত যৌথ অভিযান পরিচালনা।
3. *সচেতনতা প্রচার*: স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় মাদকের কুফল নিয়ে সেমিনার।
4. *পুনর্বাসন*: যারা মাদক ছাড়তে চায় তাদের জন্য কাউন্সেলিং ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা।
5. *পুরস্কার*: যারা মাদক ব্যবসায়ীদের তথ্য দেবে তাদের পরিচয় গোপন রেখে উৎসাহিত করা।
6.
*স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া*
পথসভায় উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘোষণাকে স্বাগত জানান। তুরাগের বাসিন্দা মো. রফিক বলেন, “অনেকদিন ধরেই এলাকায় মাদকের উৎপাত। যদি সত্যিই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয় তাহলে আমাদের ছেলেমেয়েরা নিরাপদ থাকবে।”
*রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট*
আসন্ন ডিএনসিসি নির্বাচনে ৫৩ নং ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হতে চান আব্দুল আলী। বিএনপির তুরাগ থানা কমিটির আহ্বায়ক সদস্য হিসেবে গত কয়েক মাস ধরে তিনি এলাকায় গণসংযোগ বাড়িয়েছেন। মাদকবিরোধী অবস্থানকে তিনি তার নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান ইস্যু করেছেন।
এ বিষয়ে তুরাগ থানা পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উত্তরার তুরাগ, কামারপাড়া ও আশপাশের এলাকায় গত ১ বছরে মাদক সংক্রান্ত কয়েকটি ঘটনা গণমাধ্যমে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই আব্দুল আলীর এই ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।