
লোভী ও ভয়ংকর নারী
কবি ও সাংবাদিক মোঃ সোহাগ মিয়া
রাতের শেষ প্রহরে যার চোখে ঘুম নেই,
সে হাঁটে শহরের বুক চিরে।
পায়ের নূপুর বাজে না, বাজে হিসাবের খাতা,
প্রতি ধাপে গোনে কে কী দিল, কে কী রাখল না।
তার ঠোঁটে হাসি আছে, কিন্তু সেই হাসিতে রোদ নেই,
আছে সোনার লোভ, আছে সিংহাসনের নেশা।
সে ভালোবাসা মাপে ক্যারেটে,
বন্ধুত্ব ওজন করে টাকার পাল্লায়।
যার কাছে যা আছে সব চায়,
আর যার কিছু নেই তাকেও ছাড়ে না —
“তোর নিঃশ্বাসটাও আমার পাওনা” বলে।
আয়নার সামনে দাঁড়ালে সে নিজেকেই দেখে না,
দেখে একটা মুকুট।
দেখে একটা সিংহাসন যেখানে সে একা বসবে,
আর বাকি সবাই হাঁটু গেড়ে কর জোড়ে থাকবে।
ভয়ংকর সে এই কারণে না যে সে চিৎকার করে,
ভয়ংকর সে এই কারণে যে সে নরম গলায় বিষ ঢালে।
চায়ের কাপে চিনির সাথে মিশিয়ে দেয় হিসাব,
আদরের নামে বেঁধে ফেলে শেকল।
তার ঘরে আয়না বেশি, মানুষ কম।
আয়নাগুলোও একদিন ফেটে গেছে,
কারণ তারা আর তার লোভের প্রতিচ্ছবি দেখতে পারেনি।
ঝাড়বাতির আলোয় তার ছায়া দশটা,
প্রতিটা ছায়া একেকটা চুক্তি, একেকটা প্রতারণা।
সে গল্প শোনায় না, সে দামদর করে।
অশ্রু দেখলে জিজ্ঞেস করে “এটার বিনিময়ে কী পাব?”
ক্ষমা চাইলে বলে “সুদ সহ ফেরত দিবি কবে?”
তার বুকে হৃদয় নেই, আছে লকার।
চাবি হারিয়ে গেছে বহু আগে।
তবু রাতের বেলা যখন ঝড় ওঠে,
তখন সেও জানালার পাশে একা বসে থাকে।
বাইরে গাছের পাতা কাঁপে, ভিতরে তার হিসাব কাঁপে।
কারণ লোভ কখনো পেট ভরে না,
আর ভয়ংকর মানুষগুলো সবচেয়ে বেশি নিজেকেই ভয় পায়।
সে চেয়েছিল পুরো পৃথিবী,
শেষে পেল একটা খালি ঘর আর গোনার জন্য অসংখ্য শূন্য।
রাজ্য বড় হল, মানুষ ছোট হল।
মুকুট ভারী হল, ঘুম হালকা হল।
এখনো মাঝরাতে শোনা যায়,
কেউ একজন হিসাব মেলাচ্ছে —
“আর কী বাকি আছে নেওয়ার?”
উত্তর আসে না।
শুধু তার নিজের নিঃশ্বাসের শব্দ ফিরে আসে,
ফাঁপা, ঠান্ডা, ভয়ংকর।