
*শাপুর জাদরানের শেষ বিদায়ে কাঁদল আফগানিস্তান, কফিন কাঁধে নিলেন নবী-রশীদ*
আফগানিস্তান ক্রিকেটের এক অধ্যায়ের ইতি টানলেন শাপুর জাদরান। ৩৮ বছর বয়সে মঙ্গলবার দিল্লির এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রয়াত হয়েছেন আফগানিস্তানের এই পথিকৃৎ পেসার। ৩৯তম জন্মদিনের ঠিক একদিন আগে থেমে গেল তাঁর লম্বা রান-আপ।
*হাজারো মানুষের কান্নায় শেষ বিদায়*
আজ কাবুলে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয় শাপুরকে। সবচেয়ে বেদনাময় মুহূর্তটি আসে যখন তাঁর কফিন কাঁধে তুলে নেন দীর্ঘদিনের সতীর্থ মোহাম্মদ নবী ও রশীদ খান। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জাতীয় বীরকে বিদায় জানালেন আফগান ক্রিকেটের দুই স্তম্ভ।
আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এক শোকবার্তায় লিখেছে, “গভীর শোক ও বেদনার সাথে আমরা আফগানিস্তানের সাবেক পেসার শাপুর জাদরানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি”। ACB আরও বলেছে, শাপুর ছিলেন “আফগানিস্তান ক্রিকেটের ভিত্তি স্থাপনকারী ব্যক্তিদের একজন”।
*যিনি আফগানিস্তানকে বিশ্ব মানচিত্রে তুলেছিলেন*
শাপুর জাদরান শুধু একজন ফাস্ট বোলার ছিলেন না। তিনি ছিলেন সেই প্রজন্মের মুখ, যারা ধ্বংসস্তূপ থেকে আফগানিস্তান ক্রিকেটকে তুলে এনেছিল।
– *আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার*: ২০০৯ সালে ওয়ানডে অভিষেক। সব ফরম্যাট মিলিয়ে খেলেছেন ৮০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ – ৪টি ওয়ানডে ও ৩৬টি টি-টোয়েন্টি।
– *ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক*: ২০১৫ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আফগানিস্তানের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের ম্যাচে তিনিই মেরেছিলেন জয়সূচক বাউন্ডারি। সেদিনের সেই ছয় ফুট লম্বা বাঁ-হাতি পেসারের ব্যাটের আঘাতই কোটি আফগানের স্বপ্ন পূরণ করেছিল।
– *পরিচয়*: লম্বা রান-আপ, আগুনঝরা স্পেল আর দেশের জন্য লড়ে যাওয়ার অদম্য মানসিকতা – এটাই ছিল শাপুর ব্র্যান্ড।
২০১৭ সালে কাবুলে একবার বন্দুকধারীদের হামলার শিকার হয়েও অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন তিনি। সেদিনও তিনি বলেছিলেন, “তালেবান ক্রিকেট পছন্দ করে, তালেবান ক্রিকেটারদের আক্রমণ করে না”।
কিছু মানুষ চলে যান, কিন্তু তাঁদের গল্প শেষ হয় না। শাপুর জাদরান হয়তো আর নতুন বলে দৌড়ে আসবেন না, কিন্তু আফগানিস্তান ক্রিকেটের ভিত গড়ার কারিগর হিসেবে তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
আজকের সেই শেষ বিদায়, নবী-রশীদের কাঁধে কফিন – এ দৃশ্য প্রমাণ করে দিল, মাঠের বাইরেও তারা একটা পরিবার।
আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন। আমিন।