
*চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস-মাদক-কিশোর গ্যাং ও জুয়া মুক্ত ফুলপুর-তারাকান্দা গড়তে মাঠে মোতাহার হোসেন তালুকদার*
মোঃ সোহাগ মিয়া নিজস্ব প্রতিনিধি
_ফুলপুর-তারাকান্দা প্রতিনিধি, ১০ জুন ২০২৬_
ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলাকে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদক, কিশোর গ্যাং ও জুয়ার অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে টানা মাঠ পর্যায়ের কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। গত দুই মাস ধরে তিনি দুই উপজেলার ইউনিয়নে ইউনিয়নে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে জনসচেতনতা তৈরি করছেন।
– *চাঁদাবাজি প্রতিরোধ*: ফুলপুর বাজার, তারাকান্দা বাজারসহ প্রধান হাট-বাজারে ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময়। দলীয় নেতাকর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশনা—দলের নাম ব্যবহার করে কেউ চাঁদা দাবি করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা।
– *মাদক ও জুয়া বিরোধী অভিযান*: রূপসী, বালিয়া, কামারগাঁও, কামারিয়া ও গালাগাঁও ইউনিয়নের স্পটগুলো চিহ্নিত করে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান। মসজিদের ইমাম ও শিক্ষকদের নিয়ে কমিটি গঠন।
– *কিশোর গ্যাং দমন*: স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে ‘সচেতন তারুণ্য’ শিরোনামে সমাবেশ। বিপথগামী কিশোরদের খেলাধুলা ও কারিগরি প্রশিক্ষণে যুক্ত করার উদ্যোগ।
– *সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স*: “দলমত যার যার, সমাজ সবার”—এই স্লোগানে সর্বদলীয় সামাজিক ঐক্য গড়ার ডাক দিয়েছেন তিনি।
গতকাল সোমবার তারাকান্দার কামারিয়া ইউনিয়নে এক পথসভায় মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, “আমার রাজনীতি মানুষের জন্য। আমার সন্তান যে ফুলপুর-তারাকান্দায় বড় হবে, সেটা যেন মাদক, চাঁদাবাজ আর কিশোর গ্যাংয়ের আতঙ্কের জনপদ না হয়। এই লড়াই রাজনৈতিক নয়, এটা আমাদের অস্তিত্বের লড়াই। প্রশাসনকে সহযোগিতা করব, কিন্তু সমাজকে জাগতে হবে সবার আগে।”
*এলাকাবাসীর বক্তব্য*
ফুলপুরের ভাইটকান্দি ইউনিয়নের কলেজ শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “উনার এই উদ্যোগে আমরা আশার আলো দেখছি। কিশোররা মাঠে ফিরছে।” তারাকান্দা বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শাহানা বেগম জানান, “আগে সন্ধ্যার পর দোকানে বসতেই ভয় লাগত। এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে।”
বিএনপির স্থানীয় নেতারা জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘নিরাপদ জনপদ’ গড়তে এই ক্যাম্পেইন চলবে। ঈদুল আজহার পর ফুলপুর ও তারাকান্দার ১৭টি ইউনিয়নে একযোগে মাদক ও জুয়াবিরোধী গণস্বাক্ষর ও মানববন্ধন হবে।
সম্প্রতি ময়মনসিংহ অঞ্চলে কিশোর গ্যাং কালচার ও মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোও এখন মাঠে সক্রিয়। স্থানীয়রা মনে করছেন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব সরাসরি মাঠে নামলে সামাজিক আন্দোলন গতি পায়।